• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

কে এই বিজেপির নতুন সভাপতি নাড্ডা? 

প্রকাশ:  ২০ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৫৩ | আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:০০
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

প্রায় সাত মাস কার্যকরী সভাপতি থাকার পরে বিজেপির সভাপতি নির্বাচিত হলেন জেপি নাড্ডা।

সোমবার (২০জানুয়ারি ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন নাড্ডা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পছন্দের লোক বলেই পরিচিত তিনি। সামলেছেন প্রথম মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও।

গত নির্বাচনে নাড্ডা রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তরপ্রদেশে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন। সেখানে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং বহুজন সমাজ পার্টির মহাজোটের বিরুদ্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েও সাফল্য এনে দিয়েছিলেন।

তার ছকেই উত্তরপ্রদেশের ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৬২টিতে জয়লাভ করে বিজেপি।

অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পরে দলের দায়িত্ব কিছুটা কমিয়ে দেওয়ার জন্য কার্যকরী সভাপতি পদ তৈরি করে বিজেপি। আর তার জন্য নাড্ডাকেই বাছা হয়। এবার তাঁকেই দলের সর্বোচ্চ পদের জন্য বাছলেন মোদি, অমিত শাহরা।

৫৯ বছরের নাড্ডা প্রথম মন্ত্রিসভায় ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দ্বিতীয় বার মোদি ক্ষমতায় এলেও নাড্ডাকে আর মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়নি। নিয়ে আসা হয় দলের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্বে। সেদিনই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বুঝে গিয়েছিলেন অমিত শাহর পরে তাঁকেই সভাপতির চেয়ারে বসাতে চায় বিজেপি।

আগে থাকতেই দলের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জন্যই কার্যকরী সভাপতি করা হয়েছে জেপি নাড্ডাকে। ২০১৯ সালের মে মাসে কার্যকরী সভাপতি হন আর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পেলেন সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব।

একেবারে সাধারণ কর্মী থেকে ধাপে ধাপে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হলেন নাড্ডা। দীর্ঘদিন ছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নেতা। তবে তিনি প্রথম ফোকাসে আসেন ১৯৯৩ সালে। সেবাই প্রথমবার হিমাচল প্রদেশ থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। তবে বিজেপির অন্দরে তাঁর নাম আগে থেকেই প্রথম সারিতে ছিল।

১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার সময়ে ৪৫ দিন জেলেও ছিলেন জগৎপ্রকাশ।

নাড্ডার জন্ম ১৯৬০ সালের ২ ডিসেম্বর। বাবা নারায়নলাল নাড্ডা ও মা কৃষ্ণ নাড্ডা। লেখাপড়া বিহারে। পাটনার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে পড়াশোনা করেন। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই কলা বিভাগে স্নাতক হন। এর পরে চলে আসেন হিমাচল প্রদেশে। শিমলার হিমাচল প্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে লেখাপড়া করেন এবং সেখান থেকেই এলএলবি পাশ করেন।

নাড্ডা হিমাচল প্রদেশ থেকে তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৯৩, ১৯৯৮ এবং ২০০৭ সালে। সেই সময়ে তিনি হিমাচল প্রদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ ও পরিষদীয় দফতরের মন্ত্রিত্ব সামলান।

তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় জাতীয় স্তরে চলে আসে ২০১০ সালে যখন নীতিন গড়কড়ির বিজেপি সভাপতি হওয়ার পরে নাড্ডাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেছে নেন।

এর পর থেকে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত হয় ওঠেন নাড্ডা। আর বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হননি। ২০১২ সালের এপ্রিলে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক দায়িত্বও ছিল অনেক। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব ছিলেন। তার আগে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন নরেন্দ্র মোদি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জেপি নাড্ডার স্ত্রী মল্লিকা নাড্ডা। তাঁদের দুই ছেলে। মল্লিকা নাড্ডার মা আবার প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ তথা বিজেপির মধ্যপ্রদেশের নেত্রী জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

বিজেপি,অমিত শাহ,ভারত,জেপি নাড্ডা,নরেন্দ্র মোদি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close