• রোববার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পেছনে যেসব সংগঠন

প্রকাশ:  ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৪০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের অযোধ্যায় মোগল আমলে তৈরি বাবরি মসজিদ মামলার ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির নির্মাণ করা হবে। একইসঙ্গে মসজিদ নির্মাণে অযোধ্যার মধ্যেই অন্যত্র পাঁচ একর জমি দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৯ নভেম্বর) দেশটির প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে এই রায় দেন। আগামী ১৭ নভেম্বর দেশের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন রঞ্জন গগৈ। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, অবসর নেওয়ার আগেই তিনি অযোধ্যার বিতর্কিত বাবরি মসজিদ মামলার রায় দিয়ে যেতে চান।

রায়ে বলা হয়, যে কাঠামো ভেঙে বাবরি মসজিদ তৈরি হয়েছিল, তা মসজিদ নয়। তবে তা যে মন্দির ছিল তাও নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না। বাবরি মসজিদ খালি জায়গায় ওপর তৈরি হয়নি বলেও জানানো হয়। আদালত জানান, শুধু ধর্মবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আদালত রায় দিতে পারেন না। রাম যে অযোধ্যায় জন্মেছিলেন, হিন্দুদের এই বিশ্বাসের ওপর প্রশ্ন তোলা যায় না। অন্যদিকে, জমির দখল নিয়ে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড যে দাবি করছে, তার যথাযথ প্রমাণ দিতে পারেনি।

এক দশক আগে আল্লাহাবাদ হাইকোর্টে হিন্দু ও মুসলমান মকদ্দমাকারীদের মাঝে জায়গাটি আনুপাতিক হারে ভাগ করে দেয়ার রায় দিয়েছিলেন।

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ১৬ শতকের বাবরি মসজিদটি নিয়ে হিন্দু ও মুসলমানরা কয়েক দশক ধরে তিক্ত বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। হিন্দুদের বিশ্বাস, তাদের দেবতা রাম ওখানে জন্ম নিয়েছেন।

১৯৯২ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং শিব সেনা পার্টির সমর্থকরা মসজিদটি ধ্বংস করে। এর ফলে পুরো ভারতে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে হওয়া দাঙ্গায় ২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়।

আশির দশকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তাদের রাজনৈতিক সহযোগী ভারতীয় জনতা পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে ওই স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য প্রচারাভিযান চালায়। রাম মন্দির নির্মাণের জন্য কিছু শোভাযাত্রা ও মিছিল আয়োজন করা হয়েছিল। এসব শোভাযাত্রা ও মিছিলের মাঝে অন্তর্ভুক্ত ছিল রাম রথ যাত্রা, যার নেতৃত্বে ছিলেন লাল কৃষ্ণ আদভানি।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ওই স্থানে দেড় লাখ করসেবককে নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রা চলাকালীন সময় তারা সহিংস হয়ে পড়েন এবং আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে মসজিদটি ভেঙে ফেলেন।

পরবর্তীকালে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, ঘটনাটির সঙ্গে ৬৮ জন জড়িত, যাদের মাঝে কিছু বিজেপি এবং ভিএইচপির নেতারও নাম বিদ্যমান।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দরুন ভারতের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মাঝে সৃষ্টি হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যা কয়েক মাস ধরে চলেছিল। এছাড়া এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ও তাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছিল।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এস.খান

বাবরি মসজিদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত