• মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

অষ্টমীতেই প্রথম দেখার চার ঘণ্টার মধ‍্যে পূজা মন্ডপে বিয়ে

প্রকাশ:  ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:২২ | আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:২৮
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে উৎসব, মনের দেওয়া-নেওয়া। পুজোর সময় প্রেমে পড়েননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই দায়। কিন্তু তাই বলে যেদিন দেখা সেদিনই বিয়ে! এমনটা শুনেছেন? অঘটনটা এবারের পুজোয় ঘটেই গিয়েছে। অষ্টমীতে প্রথম দেখা। আর সেদিনই দুর্গা মণ্ডপে দাঁড়িয়ে বিয়ে করে নিল যুগল। প্রথম দেখা হওয়ার ঘণ্টা চারেকের মধ্যেই চারহাত এক হল। বিশ্বাস না হওয়ার মতোই ঘটনা। সিনেমার চিত্রনাট্যকেও যেন হার মানায় এই লাভ স্টোরি।

একটু খোলসে করা বলা যাক। মাস তিনেক আগে সোশ্যাল সাইটে আলাপ হয়েছিল সুদীপ ঘোষাল ও প্রীতমা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের। প্রথম থেকেই প্রীতমাকে মনে ধরেছিল সুদীপের। তারপর হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুকে ভিডিও কলের মধ্যে দিয়ে মন দেওয়া-নেওয়া হয়ে যায়। । কিন্তু সেসব তো ভার্চুয়াল জগৎ, ‘রোজ কত কী ঘটে যাহা-তাহা, এমন কেন সত্যি হয় না আহা’ গোছের বিষয়ই সেখানে বেশি।

ঠিক হয়েছিল, ভারচুয়াল দুনিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে পুজোয় অ্যাকচুয়াল সাক্ষাৎটা করেই ফেলবেন দু’জনে। যদিও সেভাবে কোনও পরিকল্পনা করা হয়নি। ভেবেছিলেন এটা নিতান্তই বুঝি ‘ফর্ম্যাল’ একটা দেখা। কথা হবে, বড়জোর দুজনে মিলে একটু খাওয়াদাওয়া হবে। অষ্টমীতে হঠাৎই দেখাটা হয়ে যায় দুজনের। কথাবার্তা-আড্ডা আর হাতে ঠোঁটের ছোঁয়া লাগতেই অনুভূতি গাঢ় হয়ে ওঠে।

কিন্তু প্রেম আবার কবেই বা হিসেবের সীমারেখা মেনে চলেছে! কিছুটা সময় দুজন কাটাতেই তাঁরা বুঝতে পারলেন, অপেক্ষা কিসের? হয় এখনই, নয়তো কখনই নয় গোছের ব্যাপার ঘটিয়ে ফেললেন। কলকাতা শহরের মায়াবী আলোয় হাত ধরে হাঁটতে লাগলেন তাঁরা। প্ল্যান সারলেন বিয়ের। প্ল্যান বলতে কোথায় আর কতটা তাড়াতাড়ি তাঁরা এক হতে পারেন।

সেই অনুযায়ীই হিন্দমোটরে পৌঁছলেন দুজনে। রাত তখন সাড়ে দশটা। ওঠ ছুড়ি তোর বিয়ে হবে, ছাদনা তলায় গিয়ে হবে’ ঢঙেই যেন হিন্দমোটরের এক পুজো মণ্ডপে গিয়ে প্রীতমার সিঁথিতে সিঁদুর ভরে দিলেন সুদীপ। সাক্ষী রইলেন সুদীপের কিছু বন্ধুবান্ধব আর সপরিবারে মা দুর্গা।

কিন্তু পরিবার? এমন অকস্মাৎ বিয়েতে তাঁদের কি প্রতিক্রিয়া? সুদীপ জানাচ্ছেন, দুই পরিবারই তাঁদের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত খুশি। বউমাকে বুকে টেনে নিয়েছেন শাশুড়ি। জামাইকেও বেশ মনে ধরেছে প্রীতমার বাবা-মায়ের। সুদীপের মা বলছেন, “ছেলে বাড়ি ঢুকেই যখন বলল ও বিয়ে করে এসেছে, একটু অবাকই হয়েছিলাম।

তবে বউমাকে খুব পছন্দ হয়েছে।” নতুন সংসারকে ভালবেসে ফেলেছেন প্রীতমাও। স্বয়ং মাদুর্গার আশীর্বাদ না হলে কি আর প্রেমকাহিনির এমন হ্যাপি এন্ডিং সম্ভব? শক্তি চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘ভালোবাসা পেলে সব লন্ডভন্ড করে চলে যাবো!’ সুদীপ-প্রীতমা অবশ্য ভালোবাসার জন্যে লন্ডভন্ড করেননি কিছু, বরং খুব যত্ন নিয়ে লিখেছেন এক হ্যাপি এন্ডিং প্রেম কাহিনি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

দুর্গাপুজো,অষ্টমী,বিয়ে,কলকাতা শহর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত