Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

নরওয়ের মসজিদে হামলা নিয়ে যা বলছে দেশটির পুলিশ

প্রকাশ:  ১২ আগস্ট ২০১৯, ১৪:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট icon

নরওয়ের পুলিশ বলছে, রাজধানী অসলো শহরের মসজিদে যে হামলা হয়েছে সেটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

অসলো শহরের প্রান্তে আল-নূর ইসলামিক সেন্টারে শনিবার এক বন্দুকধারী হামলা চালায়। মসজিদের এক ব্যক্তি সে বন্দুকধারীকে ধরতে সক্ষম হয়। সন্দেহভাজন সে হামলাকারীকে পরে আটক করেছে পুলিশ।

সেই বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে পুলিশ, হত্যার অভিযোগ এনেছে। কারণ, তার ১৭ বছর বয়সী সৎ বোনকে ভিন্ন আরেকটি জায়গায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

বন্দুকধারীর পরিচয় কী?

সন্দেহভাজন সে ব্যক্তির নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সে নরওয়ের বংশোদ্ভূত একজন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি। তার বয়স আনুমানিক ২০ বছর।

মসজিদটি যে এলাকায় অবস্থিত বন্দুকধারী ব্যক্তি সে এলাকারই বাসিন্দা।

পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তারা আগে থেকেই চিনতো, কিন্তু তার কোন ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিল না। বন্দুকধারী ব্যক্তি উগ্র ডানপন্থায় বিশ্বাস করতেন এবং তিনি ছিলেন অভিবাসন বিরোধী।

নরওয়ের সংবাদমাধ্যম বলছে, সন্দেহভাজন এই ব্যক্তি হামলার আগে একটি অনলাইন ফোরামে তার মন্তব্য প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার সাথে সম্পৃক্ত বন্দুকধারীর প্রশংসা করেছেন।

কিভাবে হামলা হলো?

যখন হামলা হয় তখন মসজিদের ভেতরে মাত্র তিনজন ব্যক্তি ছিলেন। তারা ঈদ-উল-আযহার ছুটির প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

মসজিদের পরিচালক ইরফান মুশতাক স্থানীয় একটি টিভিকে বলেন, হামলাকারী মাথায় হেলমেট এবং গায়ে বুলেটপ্রুফ পোশাক ছিল। তার হাতে দুটো শটগানের মতো অস্ত্র এবং একটি পিস্তল ছিল।

সেখানে ঢুকেই গুলি চালানো শুরু করে বন্দুকধারী। এক পর্যায়ে ৬৫ বছর বয়সী এক মুসল্লি মোহাম্মদ রফিক বন্দুকধারীকে ধরে ফেলে। এসময় তিনিও সামান্য আহত হন।

রফিক পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমি হঠাৎ করে বাইরে থেকে গুলির শব্দ শুনলাম। সে বন্দুকধারী অন্য দু’জন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি করছিল।

তিনি বন্দুকধারীকে জাপটে ধরেন এবং তাকে মেঝেতে ফেলে দেন। তারপর ধস্তাধস্তি করে তার কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেন।

গত মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে আক্রমণের পর এই মসজিদটিতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল।

নরওয়েতে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি এবং ব্যবহার বেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। বন্দুক রাখার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রধানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। যারা ভদ্র স্বভাবের এবং যাদের আগেয়াস্ত্র রাখার জন্য যুক্তিসংগত কারণ আছে, তাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়।

এক জরীপে দেখা যাচ্ছে, নরওয়েতে বেসামরিক মানুষের কাছে প্রায় সাড়ে পনের লাখ ছোট আগ্নেয়াস্ত্র আছে।

প্রতিক্রিয়া কেমন হয়েছে?

মসজিদে এই হামলা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, নরওয়ের মুসলিম জনসংখ্যাকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট কাজ করা হচ্ছে কিনা। মসজিদের পরিচালক মোহাম্মদ মুশতাক বলেন, সরকারকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।

‘বহু বছর ধরে গোয়েন্দা পুলিশ বলছে যে মুসলমানরা এ সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। কিন্তু আপনি যদি সর্বশেষ দুটো বড় ঘটনার দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন সেখানে মুসলমানরা দায়ী নয়।’

নরওয়ের ইসলামিক কাউন্সিল বলেছে, দীর্ঘদিন যাবত নরওয়েতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, এই হামলা সেটির ফলাফল।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ টুইটারে লিখেছেন, নরওয়েতে যে মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব এবং ঘৃণা রয়েছে, সেটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

অন্য আরেক বিবৃতিতে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এটি মোকাবেলার চেষ্টা করছি। কিন্তু এটা একটা চ্যালেঞ্জ। আমি মনে করি, এটা এক অর্থে বিশ্বজুড়ে একটা চ্যালেঞ্জ।

২০১৬ সালে নরওয়ে সরকারের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, নরওয়ের মোট ৫০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ২ লাখ মুসলমান। খবর: বিবিসি বাংলা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

নরওয়ে,মসজিদ,হামলা,পুলিশ
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত