Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬
  • ||

ছিলেন কচু শাক বিক্রেতা, হলেন মন্ত্রী

প্রকাশ:  ০১ জুন ২০১৯, ১৮:৪১ | আপডেট : ০১ জুন ২০১৯, ১৮:৪৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট icon

পান্তাভাত জোগাতেই এক সময় জঙ্গল থেকে কচু এবং ঢেকি শাক তুলে আনতে হতো। বাজারে বিক্রি করে হাতেগোনা যা পয়সা পেতেন সেটা দিয়েই মিলেমিশে ভাগ করে খেতেন। চা-শ্রমিক পিতার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে গিয়ে পড়াশোনাও করতে পারেনি রামেশ্বর তেলি। তাকেই এবার মোদির মন্ত্রিসভায় করা হয়েছে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী।

জানা যায়, রামেশ্বর তেলির ছোটবেলা খুব অভাবের মধ্যে কেটেছে। বাবা ছিলেন সামান্য চা শ্রমিক। ডিব্রুগড়ের চা বাগানেই দরমার ঘরে ভাই, দুই বোন নিয়ে মোট ৬ জনের বাস। বাবার টাকায় ঠিকমতো খাবারও জুটত না তাঁদের।

রামেশ্বরের বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। তখন থেকেই পরিবারের খাবার খরচ নিজেই উপার্জন করতে শুরু করেন। দুই বছরের ছোট ভাই গুণেশ্বরকে সঙ্গে নিয়ে রোজ আশেপাশের জঙ্গল চষে বেড়াতেন। সঙ্গে করে কচু আর ঢেকি শাক নিয়ে ফিরতেন। সেগুলো বাজারে বিক্রি করে পরিবারের জন্য খাবার কিনতেন।

রামেশ্বরের বাবার মৃত্যুর পর তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। মা, ভাই এবং দুই বোনের সংসারের হাল ধরতে হয় রামেশ্বর তেলিকে।তাই পড়াশোনা বিশেষ করে উঠতে পারেননি। রোজগারের জন্য বাড়ির কাছেই একটি পানের দোকান দিয়েছিলেন। সেখান থেকে যা উপার্জন হতো তাতে সংসার চলতো। একটু একটু করে সেই টাকা জমিয়ে দুই বোনের বিয়েও দেন।

কলেজে পড়ার সময় রামেশ্বর আসামের চা জনগোষ্ঠী ছাত্র সংস্থা (আটসা)য় যোগ দেন। আটসা নেতা তেলির জনপ্রিয়তা ও নেতাসুলভ গুণ নজরে পড়ে বিজেপি নেতাদের। ২০০১ সালে দুলিয়াজান থেকে বিজেপি বিধায়ক হন রামেশ্বর। ২০০৬ সালেও বিধায়ক হন। তবে ২০১১ সালে হেরে যান। কিন্তু ২০১৪ সালে লোকসভার সাংসদ নির্বাচিন হন। কংগ্রেসের পাঁচ বারের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবনসিংহ ঘাটোয়ারকে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটে হারিয়ে তাক লাগান তিনি।

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে পবনসিংহই তার প্রতিপক্ষ ছিলেন। ২০১৪ থেকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে তাঁকে ৩,৬৪,৫৬৬ ভোটে হারিয়েছেন রামেশ্বর। যা আসামের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধান। বিপুল জনভোট, রামেশ্বরের জনপ্রিয়তার জন্যই তাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করেন মোদি।

রামেশ্বরের সংসারে এখন অভাব না থাকলেও তার জীবন-যাপনে পরিবর্তন ঘটেনি। তার মা, ভাই এখনও চা বাগানের সেই দরমার ঘরেই থাকেন। রাজনীতির কাজে বাড়িতে খুব বেশি থাকতে পারেন না রামেশ্বর। বাড়ি ফিরলে কিন্তু এই দরমার ঘরই তার আস্তানা।

পিপিবিডি/অ-ভি

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত