• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

রাখাইনে নতুন যুদ্ধাপরাধ শুরু করছে সেনাবাহিনী: অ্যামনেস্টি

প্রকাশ:  ৩০ মে ২০১৯, ০০:৩০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ারমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বিতারিত করার পর এবার রাজ্যের নৃতাত্ত্বিক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ শুরু করছে দেশটির সেনাবাহিনী।

বুধবার (২৯ মে) মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, বিনাবিচারে আটকের এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।

নৃতাত্ত্বিক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অধিকার আদায়ে লড়াইরত এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানের সময় সেনাবাহিনী এসব অপরাধ সংগঠিত করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। সংঘাত কবলিত এলাকা থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষের সাক্ষাৎকার এবং ছবি, ভিডিওচিত্র ও স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে নতুন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি। তবে রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগের মতো এই অভিযোগও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর নির্বিচার হামলায় রাখাইনের বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছে। অ্যামনেস্টির পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া বিষয়ক পরিচালক নিকোলাস বেকুলিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতার নিয়ে আন্তর্জাতিক তৎপরতার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী আবারও রাখাইন রাজ্যে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ নিপীড়ন চালাচ্ছে’। তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে নতুন অভিযান স্পষ্ট করেছে যে একটি অনুতাপ ও সংস্কারহীন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কীভাবে সন্ত্রাস চালাচ্ছে আর বিভিন্ন কৌশলে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাচ্ছে’।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে সাতটি বেআইনি হামলার ঘটনায় ১‌৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ২৯ জনেরও বেশি আহত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিবেদনে নির্যাতন, গুম ও বিনা বিচারে আটকের ঘটনারও বর্ণনা রয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

গত মাসে ছয় নিরস্ত্র বন্দিকে আটকের স্বীকারোক্তি দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তাদের দাবি নিরস্ত্র এসব ব্যক্তিরা সেনা সদস্যদের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের হত্যায় বাধ্য হয় তারা। তারপরও অ্যামনেস্টির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাউ মিন তুন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেছেন সেনাবাহিনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয় আর বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়িয়ে চলে। তিনি বলেন, সেখানে সন্ত্রাসী নির্মূলে অভিযান চলছে। কোনও যুদ্ধাপরাধ সংঘটন না করার বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।

এবছরের শুরু হওয়া সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির লড়াইয়ের কারণে প্রায় ৩০ হাজার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

পিপিবিডি/এস.খান

রাখাইন,অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত